নেত্রকোনা জেলা নামকরণের ইতিহাস। History of Naming of Netrakona District

নেত্রকোনা জেলা নামকরণের ইতিহাস। History of Naming of Netrakona District

নেত্রকোনা জেলা নামকরণে

নেত্রকোনা জেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস জেনে নিন

বিস্তারিত পোস্টটি পড়ুন

নেত্রকোনা জেলার মাঝখান দিয়ে মগরা নদী বের হয়েছে। এই নদীর বাঁ ক চোখের বা নেত্রের কোণের মতো বলে এই জেলার জায়গার নাম করা হয়েছে নেত্রকোনা। আবার কিছু কিছু মানুষ মনে করেন মোগরা ও কংস নদী দিয়ে এই জেলা দেখতে কিছুটা চোখ বা নেত্রের মত। তাই এই জেলার নামকরণ হয়েছে নেত্রকোনা।

তবে ঘটনাটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু নদীর পূর্বে অবস্থিত নেত্রকোনা জেলা ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৮৮২ সনে প্রথম মাসের ৩ তারিখ থেকে নেত্রকোনা জেলার নামকরণ নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। নামকরণ বলতে এরকম যে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বুদ্ধির জন্য অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মতন। যাইহোক এদিকে আর না যাই। ১৮৮৪ সনে এর কাজ শেষ হয়। ইংরেজদের শাসনামলে এ অঞ্চলটি ময়মনসিংহ জেলার ছিল।

আর সেসময় নেত্রকোনার আসল নাম ছিল কালিগঞ্জ। আর এই নামের সূত্র ধরে ইতিহাস আর লিখতে চাই না। মূলত ইংরেজদের কালীগঞ্জকে নামকরণ করার জন্য অন্য উদ্দেশ্য ছিল। ইংরেজরা মোটেও তাদের এই কালীগঞ্জ এলাকার সুযোগ-সুবিধা জন্য নামকরণ করতে চাইনি। উদ্দেশ্য হচ্ছে নেত্রকোনায় তৎকালীন কালীগঞ্জে ইংরেজদের ভীত করতে ব্যবস্থা করা হয়।

নেত্রকোনা জেলা নামকরণের ইতিহাস।

নেত্রকোনা জেলা নামকরণের ইতিহাস
এখন আপনাদের মনে অবশ্যই প্রশ্ন ওকে দিচ্ছে যে নেত্রকোনা কেন এমন ছিল কেনই বা ব্রিটিশরা কলকাতা দিল্লি ছেড়ে নেত্রকোনার মতো এলাকায় তাদের ভিত্তি কেন শক্ত করতে চাইছিল। এমন প্রশ্ন রাস্তায় স্বাভাবিক নিচের সবগুলো আর্টিকেল পড়ুন বুঝতে পারবেন।

১) আপনারা জানেন নিশ্চয়ই পৃথিবীতে দান উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ আর এই নেত্রকোনায় এই ধানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপন্ন হয় অনেক বেশি।

২) সারাবিশ্বে তখন পাট চাষ এবং পাটের চাহিদা খুব বেশি ছিল। সোনালী আঁশ এবং পাট হিসেবে করলে দেখা যাবে পৃথিবীর 70% পাট উৎপাদন হয় আমাদের এই বাংলাদেশে। আরে ৭০% পাটোই উৎপাদন হতো আমাদের এই নেত্রকোনায়। আসল হচ্ছে সারা বিশ্বে প্রায় ৫০ ভাগ পাঠ উৎপাদিত হতো আমাদের এই নেত্রকোনা জেলায়।

৩) আর মাছের কথা কি বলবো হাওর নদনদী আমাদের এই নেত্রকোনায় কোনো হিসাব নেই জলধারের মাছ ছিল সুখ্যাত আর এই নেত্রকোনা জেলা এখন পর্যন্ত মাছের জন্য খুবই বিখ্যাত।

নেত্রকোনা নামকরণের ইতিহাস।

কালীগঞ্জ
এগুলো ছাড়াও আরো অনেক অনেক পণ্য সামগ্রী তখন সত্য রপ্তানি করা হতো সারা বিশ্বে আমাদের এই নেত্রকোনা থেকে। আর সেই মাল আনয়ন করার জন্য রেল এক নাম্বার জান বাহন ছিল আঞ্চল নেত্রকোনার । আর অনেক অর্থ আয় করা হতো। আর সেই আয় ধরে রাখতে হলে শাসন করতে হবে নেত্রকোনাকে। তার এই সূত্র ধরেই কালীগঞ্জকে মহকুমা করা হয়। কালিগঞ্জ বাজারের পাশে নাটোর কোন নামে সুন্দর একটি গ্রাম ছিল। ভীলু কবিরের লেখা বাংলাদেশের জেলা নামকরণের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়। 

নাটোর কোনা সেই সুন্দর গ্রামটি বর্তমানে নেত্রকোনা জেলা শহরের ৭-৮ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম পাশে অবস্থিত ছিল। একটা সময় প্রশাসনিক কার্যকর্ম এই নাটোর কোনা গ্রামেই চলতে থাকে। আর এই নাটোর কোনায় কালীগঞ্জকে শক্ত হাতে শাসন করতে ব্রিটিশ ইংরেজ প্রশাসন একটি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করে। তবে ইংরেজরা নাটক কোন উচ্চারণ করতে পারত না তারা এই নাটোর কোনাকে নেটটা কোলা উচ্চারণ করত।

যখন ভারত ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন তুলে ধরে তখন একবার আক্রমণ করা হয় সেই নাটক কোনা পুলিশ ফাঁড়িতে। অনেকটাই লুট করার মত হয় ইংরেজ পুলিশদের আস্তানাই। তখন ইংরেজ প্রশাসন তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে নাটোর কোনা পুলিশ ফাঁড়ি এখান থেকে নিয়ে আসে কালীগঞ্জ বাজারে। আর সেই পুলিশের নাম রয়ে যায় নাটোর কোনা। আর সেই নাটোর কোনা নামটি কালের সাথে নেত্রকোনা উচ্চারণ রূপ ধারণ করে। 

এতটা ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনি চাইলে আমাদের অন্য পোস্টগুলো করতে পারেন। যদি নেত্রকোনা সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকে তাহলে আমাদের কমেন্টটা জানাবেন আমরা যথাযথ চেষ্টা করব আপনাদেরকে হেল্প করার জন্য।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url